মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

নদ-নদী ও খাল-বিল

হযরত শাহজালাল (রা:) এর সিলেট বিজয় কালে সমগ্র সুনামগঞ্জ মহকুমার একমাত্র জগন্নাথপুর থানা ছিল স্থলভাগ। অবশিষ্ট সমগ্র ভূভাগ ছিল সাগর বা হাওর। তথ্য অথৈ জলরাশিতে পরিপূর্ণ বিশাল জলধি।

                                                                                                               (শ্রীহট্রে ইসলাম জ্যোতি)

সমগ্র বাংলাদেশটাই যেখানে সমুদ্রের তলদেশ থেকে উহ্থিত হয়েছে সেখানে সুনামগঞ্জ তথা জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন তো কোন ছার। তারপরও আমরা জোর দিয়ে বলতে পারি যে, জামালগঞ্জ থেকে উত্তর দিকে তাকালেই আমাদের পায়ের তলার মাটির অনুসন্ধান মিলে। গারো পাহাড়ের অসংখ্য ছড়া আর ঝর্ণার বয়ে আনা পলির দীর্ঘ দিনের স্তরীভূত সঞ্চয়নই ভরপুর করেছে জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কিংবদন্তীর কালিদহ সাগর।

সুরমার প্রবাহ ধারা: আসামের বড়াইল পাহাড় হতে উৎপন্ন বরাক নদী সুরমা নামে সিলেট, ছাতক হয়ে সুনামগঞ্জ অতিক্রম করে পৈন্দা গ্রামের দু' শাখায় বিভক্ত হয়। এর এক শাখা কালনী নামে প্রবাহিত হয়ে মারকূলীর কাছে কুশিয়ারার সাথে মিলিত হয়। অপর শাখাটি পিয়াইন নাম ধারণ করে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে জয়নগর বাজার অতিক্রম করে জামালগঞ্জ থানার ভূমি স্পর্শ করে। উক্ত স্রোতধারা নওগাঁও এর পূর্বে প্রান্তে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে মুল শাখা পিয়াইন নামে বিছনা, ভীমখালি বাজার স্পর্শ করে কাঠালিয়া, হাসনাবাজ, কলকতথা অতিক্রম করে ভাটিপাড়ার গা ঘেষে পশ্চিম দক্ষিণ  দিকে প্রবাহিত হয়।

অপর ক্ষীণ শাখাটি জাল্লাবাজ, নুরপুর অতিক্রম করে দূর্লভপুরের নিকট খরস্রোতা রক্তির স্রোতধারায় মিলিত হয়। ঠেংগা বা বাঁশের যুৎসই লাঠিতে ভর করে সামান্য জোরে লাফ দিয়ে এ নতুন ক্ষীণ খাল সদৃশ নদীটি পার হওয়া যেত বলে এর প্রাথমিক পর্যায়ের নাম ছিল ঠেংগাখালি যা বর্তমানে সুপ্রশস্ত সুরমা।

ঠেংগাখালির পরবর্তী যাত্রা: দূর্লভপুর হতে রক্তি নদী ও ঠেংগাখালির মুল স্রোতধারাটি পিয়াইন নামে শাহাপুর, তেলিয়া, সাচনা, জামালগঞ্জ, লম্বাবাক হয়ে লক্ষীপুর পর্যন্ত প্রলম্বিত হয়। এ নদীটি গোলকপুর থেকে স্থানীয় ভাবে 'ধনু' নাম ধারণ করে শরীফপুর, রামপুর জামলাবাজ, গজারিয়া, কামদরপুর হয়ে আরো অসংখ্য গ্রামকে দু-কুলে ধারণ করে গাগলাজুর, বরান্তর, লেপশিয়া কে পেছনে ফেলে মেঘনার সংগে মিলিত হয়।

জামালগঞ্জ সদর উচ্চ ভূমি ছিল কি? কালিদহ সাগরের তলদেশ থেকে জেগে উঠা জামালগঞ্জ যেমন সত্য, তেমনি সুদুর অতীতে জামালগঞ্জ সদর এলাকা যে উচ্চ ভূমি ছিল সে কথাও তেমনি সত্য। যার যথেষ্ঠ প্রমাণ মৌজুদ রয়েছে আমাদের চারপাশে। এতদঞ্চলে ফালগুন-চৈত মাসে নদীর পাড় বুঁড়ে অথবা হাওর এলাকার জমি বা শুকানো বিলের তলদেশ গর্ত করলে এক প্রকার কালো মাটি পাওয়া যায়। উক্ত কালো মাটির স্তরে স্তরে পাওয়া যায় ছোট বড় অসংখ্য বৃক্ষের পাতা-ডাল-কান্ড। উক্ত ডাল-কান্ড সহ উত্তোলিত কালো মাটি বেশ কয়েক বছর পূর্ব থেকেই গ্রাম-গঞ্জে লাকড়ী হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

এতে কি অনুমিত হয় না  যে, সুদূর অতীতে উচ্চ বনভূমি ছিল জামালগঞ্জ সদর এলাকা? ভূমিধ্বস, ভূমিকম্প অথবা প্রাকৃতিক কোন বিপর্যয়ে সমগ্র এলাকাটি গভীর গর্তে অথবা বিস্তর এলাকা জুড়ে একান্ত নিম্ন ভূমিতে পরিণত হয়েছে, যা কালের পরিক্রমায় বড় বড় বিল- বাদারে পরিণত হয়েছে।

আমাদের আজকের ঠিকানা: আজ আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, উপরোল্লেখিত ছড়া, নদী, উপ-নদী শাখা নদী দ্বারা কালের আবর্তন বিবর্তনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিলেতিলে পলি জমা হয়ে কালিদহ সাগরের বুক চিরে জেগে উঠা ভূমিই আমাদের আজকের ঠিকানা জামালগঞ্জ সদর।

ছবি



Share with :

Facebook Twitter